H i , Guest

Notice: We Need Some Editor For Maintain Our Site.

Search

Home » Ghost Stories » ভ্যাম্পায়ার কিং; পর্ব-২; লেখক:ধ্রুবতারা(রাকিব)

About 1 month ago 63 Views

administrator

ভ্যাম্পায়ার কিং
.
পর্ব-২
লেখক:ধ্রুঁবঁ’ তাঁরাঁ (রাকিব)
__*__*__*__*__*__
ইভা বলতে শুরু করলো,”তুমি যে পাগলটার কথা বলছিলে গত সাতদিন আগে তার লাশ পাওয়া যায় ওই জঙ্গলের ধারেই।”
.
কথাটি শুনে চমকে উঠলাম আমি,”কি বলছ এসব? আমি তো নিজে ওই পাগলটার সাথে ধস্তাধস্তি করেছি তারপর গুলি করেছি।”
.
ইভা রহস্যজনক একটা হাসি দিয়ে বলল,”তুমিই যদি গুলি করে থাকবে তাহলে ওর লাশটা কোথায় গেল? আস্ত একটা মানুষ কি গুলি খেয়ে অদৃশ্য হয়ে যাবে?”
.
চুপ হয়ে গেলাম আমি।ঠিকি তো বলছে ইভা।আমার চোখের সামনেই পাগলটা অদৃশ্য হয়ে গেল।তাহলে কে ছিলো ওটা? জানতেই হবে আমাকে।
.
আমি:আচ্ছা ইভা।তুমি কি আমাকে পুরো ব্যাপারটা খুলে বলবে? কি হয়েছে আমাদের গ্রামে?
.
ইভা:তোমাকে যে বলতে ইচ্ছে করছেনা রাকিব।কারণ আমি জানি তুমি এই ভৌতিক ব্যাপারটাকে একদম সাধারণভাবে নেবে আর এটাকে তোমার একটা কেস বানিয়ে ফেলবে।তোমার যদি কিছু হয়ে যায় আমি বাঁচতে পারবোনা।[কেঁদে ফেলল ইভা]
.
আমি:আরে আরে পাগলী এখানে কাঁদার কি হলো?
.
ইভা:বড্ড বেশি ভালোবাসি তোকে…
.
আমি:পাগলী… এখন বলো কি হচ্ছে আমাদের গ্রামে ?
.
চোখ মুছতে মুছতে ইভা বললো,”অশরীরী এক আত্না প্রবেশ করেছে আমাদের গ্রামে।রাত 8 টার পর যেই বাইরে বের হয় সে আর বেঁচে ঘরে ফিরতে পারেনা।প্রত্যেকের লাশ পাওয়া যায় গ্রামের শুরুতে ওই জঙ্গলের ধারে।কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপার এই যে,কারো শরীরেই বিন্দুমাত্র রক্ত থাকেনা।সাদা ফ্যাকাসে হয়ে যায় দেহ।এমনকি লাশগুলো নাকি এতো ঠান্ডা হয় যে মনে হয় অনেকদিন আগে মারা গেছে ওরা।এটা তো স্বাভাবিক ঘটনা। মাঝে মাঝে কেউ কেউ নাকি যারা মারা যায় তাদের মাঝে কাউকে দেখতে পেয়েছে রাতে হেঁটে যেতে।
.
এতক্ষণ চুপ করে ইভার মুখে সব শুনলাম।এবার ওকে একটু থামিয়ে জিঙ্গেস করলাম,”যদি রাতে কেউ বাইরেই না বের হয় তাহলে ওসব আত্নাদের কেউ দেখলো কিভাবে?”
.
ইভা:কারণ ওগুলো মানুষে বাড়ির চারপাশ দিয়েই ঘুরে বেড়ায়।কোনো ফাঁকে যদি কাউকে পেয়ে যায় তাহলে রক্তশূন্য করে দেয় তার শরীর।আর যে মারা যায় সেও তখন রক্তচোষা পিশাচ হয়ে যায়।
.
মনের অজান্তেই অস্ফুট স্বরে বলে ফেললাম,”ভ্যাম্পায়ার…”
.
ইভা ভ্রু কুঁচকে বললো,”ভ্যাম্পায়ার? সেটা আবার কি?”
.
আমি:ওই যে বললে না রক্তচোষা পিশাচ।ওরাই ভ্যাম্পায়ার।ওরা শুধু আত্না নয়।ওদের শরীর ও আছে।তবে ওরা ভৌতিক শক্তির অধিকারী।ওদের শরীরকে ধ্বংস করলে ওদের আত্নাও নি:শ্বেস হয়ে যাবে।
.
ইভা:ওই যে শুরু করে দিছে আমাদের সি.আই.ডি সাহেব।তো স্যার দয়া করে এই ছুটি টা ভালো করে কাটিয়ে যান।
.
আমি:কেনো ম্যাডাম কি আছে এই ছুটিতে ?
ইভা:জানিনা…
বলেই লজ্জা পাবার মতো হাসি দিয়ে দৌড়ে বাড়ির ভেতরে চলে গেল।কিছু বুঝতে পারছি না আমি।এবারই যদি বিয়ে করায় তাহলে তো গেলো… আমার স্বাদের চাকরিতে আর প্রমোশন পাওয়া লাগবেনা জীবনে।
.
যাইহোক বাড়ি ফিরে এলাম আমিও।বাড়ির সবার কথা শুনে বুঝতে পারছি ভাব খারাপ।বিয়েটা বুঝি করাই লাগবে।আমি ওদিকে কান না দিয়ে হেড অফিসে ফোন দিয়ে আমার ছুটি বাতিল করলাম।
স্যার:আপনি বাড়িতে থাকা সত্বেও ছুটি বাতিল করছেন কেন?
.
আমি:এখানে একটা কেস পেয়ে গেছি স্যার।কাজেই আমি অন ডিউটিতে।তাই ছুটি বাতিল করুন।
.
এরপর আমার ছোট হিডেন ক্যামেরাতে রেকর্ড হওয়া ভিডিওটা প্লে করতেই গা শিউরে উঠলো আমার।
ভিডিওতে তো কেউ নেই।আমি একাই অদৃশ্য কারো সাথে যেন ধস্তাধস্তি করছি।এতক্ষণে পুরো ব্যাপারটা পরিস্কার হলো আমার কাছে।
.
গভীর রাতে বেরিয়ে পড়লাম আমি।সাথে পিস্তল ছাড়া আর কিছুই নিলাম না।টর্চ পর্যন্ত নেইনি।কারণ ভ্যাম্পায়াররা দিনের বেলাতে মানুষের রূপে সবার সাথে মেশে।আমি যদি ভ্যাম্পায়ার কিং কে বের করতে চাই তাহলে খুব সাবধানে ও গোপনে কাজ করতে হবে আমাকে।নাহলে নিজেই বিপদে পড়ে যাবো।
এসব ভাবতে ভাবতে প্রায় জঙ্গলের কাছে চলে এসেছি আমি।এবার লুকিয়ে পড়তে হবে আমাকে।আজ রাতে কোনো ভ্যাম্পায়ারের চোখে পড়তে চাইনা আমি।
.
একটা গাছে উঠে পাতার আড়ালে বসে রইলাম।
বেশ কিছুক্ষণ বসে থাকার পরও কোনোকিছুর দেখা পেলাম না আমি।
হঠাৎ একটা বাচ্চার কান্নার আওয়াজ পেলাম আমি।
সামনে তাকাতেই দেখতে পেলাম আমাদের গ্রামের হুজুর কাঁধে একটা পোটলা নিয়ে জঙ্গলের ভেতরের দিকেই আসছেন।আমি যে গাছে বসে আছি ওই গাছের নিচেই বসে পড়লেন উনি।
পোটলা খুলতেই দেখতে পেলাম একটা মানুষের বাচ্চা।হুজুরের দেহের আকৃতি ধীরে ধীরে পাল্টে যেতে লাগল।পিঠে ডানা হয়ে গেল আর উনার আকৃতি একটা বাদুড়ের মতো হয়ে গেল।।
.
নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছিনা আমি।কি হচ্ছে এসব?
তারপর উনার দুই ঠোঁটের কোনা থেকে দুটি লম্বা দাঁত বেড়িয়ে এলো।ঠিক যেন সরু পাইপ।ওটা বাচ্চাটির ঘাড়ের শিড়াতে বসিয়ে দিলেন।তারপর রক্ত চুষে খেতে লাগলেন।
যে মানুষটা সবসময় পাক পবিত্র অবস্থায় থাকতেন আজ তার এ কি পরিস্থিতি ?
হয়তো এশার নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার সময় ভ্যাম্পায়ারের হাতে পড়তে হয়েছিলো তাকে।
নাহ এভাবে চলতে পারেনা।কিছু একটা করতেই হবে আমাকে।তা না হলে এই পুরো গ্রামটা ভ্যাম্পায়ারে ভরে যাবে।
.
রক্ত খাওয়া শেষে বাদুড় হয়েই উড়ে যাবেন তখনি জোড়ে ডেকে উঠলাম আমি,”ভ্যাম্পায়ার…”
.
সাথে সাথে বাদুড়টা ঘুরে তাকালো আমার দিকে।ওটার চোখ আগুনের মতো জ্বলজ্বল করছে।এমন চোখ দেখে কেঁপে উঠলো আমার হৃৎপিন্ড। আচমকা বাদুড়টা ঝাপিয়ে পড়লো আমার ওপর।কিছু বুঝে ওটার আগেই উড়ে এসে গাছ থেকে ফেলে দিলো আমাকে।
কোমরে প্রচুর ব্যাথা পেলাম।উঠে দাড়ানোর শক্তি পর্যন্ত নেই আমার।
.
বাদুড়টা আবারো ঝাপিয়ে পড়লো আমার ওপর।
কি আশ্চর্য একটা বাদুড়ের সাথে পেরে উঠছি না আমি??
.
আমার সাড়া শরীর কামড়ে খামচে ক্ষত বিক্ষত করতে লাগলো।
তারপর আমার ঘাড়ের কাছে এসে রক্তের শিরাতে বসিয়ে দিলো তার দাঁত…
.
.
.
#চলবে__
.
#কেমন_হচ্ছে_জানাতে_ভুলবেননা_কিন্তু__

2 responses to “ভ্যাম্পায়ার কিং; পর্ব-২; লেখক:ধ্রুবতারা(রাকিব)”

  1. Rasel
    (administrator)

    nice

  2. ridoymini
    (author)

    সুন্দর পোস্ট চালিয়ে যান

Leave a Reply

Related Posts

ভ্যাম্পায়ার কিং গল্পের সব পর্বের লিংক

Posted By: - 4 weeks ago - 1 Comment

ভ্যাম্পায়ার কিং; পর্ব-৪

Posted By: - 4 weeks ago - 2 Comments

ভ্যাম্পায়ার কিং; পর্ব-৩

Posted By: - 1 month ago - 7 Comments

ভ্যাম্পায়ার কিং পর্ব-১ লেখক:গোস্ট কিং(রাকিব)

Posted By: - 1 month ago - 3 Comments