H i , Guest

Notice: We Need Some Editor For Maintain Our Site.

Search

Home » Ghost Stories » ভ্যাম্পায়ার কিং; পর্ব-৪

About 4 weeks ago 79 Views

administrator

ভ্যাম্পায়ার কিং
.
পর্ব-৪
লেখক:ধ্রুবতারা (রাকিব)
………………….
ধীরে ধীরে নিঃশ্বাস ভারী হয়ে আসছে ইভার।বুকটা ফেটে যাচ্ছে আমার।
হসপিটালে নিতেই ডক্টর এসে বললো,”পুলিশ কেস,আগে একটা ডায়রী করে আসুন।না হলে পেসেন্টকে ভেতরে নেওয়া হবে না।”
ডাক্তারের কথা শুনে আমার রক্ত মাথায় উঠে গেছে।রাগের চোটে পিস্তলটা ডক্টরের মাথায় ঠেকিয়ে বললাম,”এই সালা আর একটা কথা বললে… ছয়টা দানা তোর খুলিতে ভরে দিতে আমার ছয় সেকেন্ড সময়ও লাগবে না।”
.
ডক্টর ভয়ে ঢোক গিলে বললো,”প্লিইইজ টাটাট্রাই টুউউ আন্ডারস্টান্ড।দিজ ইজ পুলিশ মেটার।”
.
জয় সাথে সাথে কার্ড বের করে দেখালো।তারপর ইভাকে ভেতরে নিয়ে যাওয়া হলো।
মেঝেতেই ধপাস করে বসে পড়লাম আমি।তন্ময় এসে বললো-“এতো ভেঙ্গে পড়িসনা দোস্ত।দেখবি সব ঠিক হয়ে যাবে।”
.
এতক্ষণ কাঁদতে পারছিলাম না আমি।কিন্তু এখন জোড়ে চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করছে..
একটু পরেই ডক্টর এসে বললো,”ইমার্জেন্সি রক্ত লাগবে।শরীর প্রায় একেবারে রক্তশুন্য।অনেক রক্ত লাগবে।”
.
আমি:আমি রক্ত দিবো ডক্টর।
.
সজল:মাথা খারাপ হয়ে যায়নি তো তোর।তোর নিজেরই রক্ত শর্ট।একটা মানুষের দেহের সম্পূর্ণ রক্ত দিতে হবে ইভাকে।তোর একার রক্ত তে কিছুই হবে না।
.
আমি একটু চটে গিয়ে,”আরে মাথামোটা কিছুই মাথায় ঢোকেনা তোর? আমি আপাতত চালিয়ে নিচ্ছি।তোরা ব্লাড ব্যাংকে যা।আমাদের দুজনের জন্যই ব্লাড আনা লাগবে।আমাদের হাতে যে আর মাত্র পাঁচদিন সময় আছে তা ভালো করেই মনে আছে আমার।এই অবস্থায় দুর্বল হতে চাইনা আমি।ডু ফাস্ট…”
ওরা সবাই আলাদা আলাদা ব্লাড ব্যাংকে চলে গেল।কারণ এক ব্যাংকে এতো রক্ত একসাথে পাওয়া সম্ভব না।
.
এরপর রক্ত আনা,দেওয়া-নেওয়া এসব করতে করতে ভোর হয়ে গেল।
সকালের দিকে জ্ঞান ফিরলো ইভার।আমি ইভাকে কিছু বলতে যাবো তখনি ডক্টর আমাকে আলাদা ডাকলো।
.

আমি:কি হয়েছে ডক্টর।এনি প্রব্লেম?
.
ডক্টর:ইয়েস মি.রাকিব।পেসেন্ট কন্ঠনালীতে গুরুতর আঘাত পেয়েছে এবং সেখানে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে।তাই সে আর কথা বলতে পারবে না.. আই এম সরি।আমাদের কিছুই করার নেই।
.
থমকে গেলাম আমি।এ কি বলছে ডক্টর।
আমি:হোয়াট দ্যা হেল আর ইউ টকিং? আর ইউ সিওর?
.
ডক্টর:হুম.. তবে ক্ষত সেড়ে গেলে কথা বলতে পারার সম্ভাবনা আছে বলে আশা করছি।
.
দ্রুত ডক্টরের রুম থেকে বেরিয়ে এসে ইভার কাছে চলে গেলাম।দেখি ইভা নিরবে চোখের জল ফেলছে।হয়তো কথা বলার চেষ্টা করেছিলো।কিন্তু পারেনি…
.
মা কে ইভার পাশে রেখে আর এক মুহুর্ত দেরী করলাম না হসপিটালে।ওদের চারজনকে সাথে নিয়ে চলে গেলাম সোজা জঙ্গলে। ফায়ার ব্রিগ্রেড সহ সকল প্রকার ফোর্স আসল আমাদের গ্রামে।
.
তন্ময়:রাকিব,কি করতে চাইছিস তুই।সরাসরি যুদ্ধ করবি নাকি ভ্যাম্পায়ারদের সাথে?
.
চিৎকার করে জবাব দিলাম আমি,”হ্যাঁ যুদ্ধ হবে।শুধু এই গ্রাম নয় এই পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন করে দিবো ভ্যাম্পায়ারদের।
This Is The War Of (VAMPYR v THE DEVIL HUNTER)
.
আমার কথা শুনে চমকে উঠলো সবাই।যখন আমাদের চিহ্ন অনুযায়ী জঙ্গলের বাড়িটার কাছে গেলাম আশ্চর্য না হয়ে পারলাম না।কোথায় বাড়ি? এখানো তো কোনো বাড়ি দেখতে পাচ্ছি না। শুধু যে জায়গায় বাড়ি ছিলো সে জায়গাটা ফাঁকা হয়ে আছে।এই ঘন জঙ্গলে এত বড় ফাঁকা জায়গা থাকা একেবারে অসম্ভব।
.
আমার নির্দেশ পাওয়া মাত্রই জায়গাটা খুড়তে শুরু করলো ব্রিগ্রেড ফোর্স।
দশ ফুট খুড়তেই কিছু একটার অস্তিত্ব বুঝতে পারলো তারা।
ওটার আকৃতি অনুযায়ী খুড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলাম।
টানা তিনদিন খোড়ার পর দরজাবিহীন সেই প্রাসাদটি মাটির নিচ থেকে উদ্ধার হলো যেই প্রাসাদটি মাত্র পাঁচদিন আগে মাটির ওপরে দেখেছিলাম আমরা।
.
পুরো গ্রামে একটা মিশন শুরু করেছি আমি।ওপরমহল পর্যন্ত তোলপাড় উঠে গেছে।
পুরো জঙ্গল ধ্বংস করে দিবো আমি।
এতো একটু বনমন্ত্রীর দিক থেকে চাপ আসছে।কারণ জঙ্গলটা অনেক বড়।কিন্তু এছাড়া আমার আর কোনো উপায় নেই।
যেকোনো সময় যেকোনো পরিস্থিতিতে যে কাউকে ফায়ার করতে পারবো আমি।তাই রাজনৈতিক দিকটা চুপসেই আছে।
সারাদিন প্রচুর ব্যাস্ততায় কেটে যায়।রাতে ফিরে ইভাকে দেখলেই যেন সব ক্লান্তি দুর হয়ে যায়। প্রতি রাতেই আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদে ইভা।
ওর মুখ থেকে কিছু শুনতে খুব ইচ্ছে করে।ওর বলা পাগল,শয়তান এগুলোকে খুব মিস করি।জানিনা আল্লাহ কবে সহায় হবেন।কবে আমার ইভার কন্ঠস্বর ফিরিয়ে দিবেন।
.
সেদিন রাতে ইভা ঘুমাতে যাবার পর আমি জানালা বন্ধ করতে যাবো তখনি দেখতে পেলাম শত শত বাদুড় উড়ে যাচ্ছে সোজা ঊপরের দিকে।চাদের আলোয় যতদূর দেখা গেলো তাকিয়ে থাকলাম সেদিকে।
হঠাৎ আমার ঘরে ভ্যাপসা পচাঁ গন্ধে ভরে গেল।ঠিক যেন মাংস পচার গন্ধ।গন্ধে নাড়ি ভুরি মোচড় দিচ্ছে আমার।
পেছনে তাকিয়ে যা দেখলাম তার জন্যে মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না আমি।তিনটে পচা দেহ পড়ে আছে আমার ঘরে।পচা মাংস দেহ থেকে খসে খসে পড়ছে।চোখ কোটর থেকে বেরিয়ে ইঞ্চখানেক নেমে এসেছে।পোকা ধরে গেছে সেই পচা শরীরে।
.
কেমন যেন নড়ে উঠলো দেহগুলো।অস্ফুট স্বরে বলতে লাগলো,”রক্ত দে,রক্ত দে, রক্ত দে…”
ভয়ে দুহাত পিছিয়ে গেলাম আমি।এমন বিভৎষ্য দৃশ্যে ভয়ে গলা শুকিয়ে যাচ্ছে আমার।
.
ওরা আবার বলে উঠলো,”তোর জন্যেই আমাদের এই অবস্থা।ছারবোনা তোকে।তোর রক্ত পান করেই আমরা আবার শক্তিশালী হবো।
এই বলে ওরা এগিয়ে আসতে লাগলো আমার দিকে।
আমার পিস্তল ও ব্যাগ ওদের ওপাশে।ওদেরকে ডিঙ্গিয়ে যাওয়া একেবারে অসম্ভব।
একদম কাছে চলে এসেছে ওরা।গন্ধ আর সহ্য করতে পারছিনা আমি।দম বন্ধ হয়ে আসছে।
.
হঠাৎ ওগুলো কেমন যেন চেঁচিয়ে উঠলো।
তারপর লুটিয়ে পড়লো মাটিতে।আস্তে আস্তে গলে পচা দেহগুলো অদৃশ্য হয়ে গেল আমার চোখের সামনে।
তাকিয়ে দেখি ইভা দাড়িয়ে আছে…
.
.
>চলবে…
>কেমন হলো??

2 responses to “ভ্যাম্পায়ার কিং; পর্ব-৪”

  1. Rasel
    (administrator)

    Nice,

  2. ridoymini
    (author)

    https://free.facebook.com/profile.php?id=100026415142463

    এইটা আপনার প্রোফাইল লিংক

Leave a Reply

Related Posts

ভ্যাম্পায়ার কিং গল্পের সব পর্বের লিংক

Posted By: - 4 weeks ago - 1 Comment

ভ্যাম্পায়ার কিং; পর্ব-৩

Posted By: - 1 month ago - 7 Comments

ভ্যাম্পায়ার কিং; পর্ব-২; লেখক:ধ্রুবতারা(রাকিব)

Posted By: - 1 month ago - 2 Comments

ভ্যাম্পায়ার কিং পর্ব-১ লেখক:গোস্ট কিং(রাকিব)

Posted By: - 1 month ago - 3 Comments